
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন যে, তিনি ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারপ্রধান হিসেবে নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা তাঁর দায়িত্ব।
আজ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আওতাধীন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা দুর্গাপূজার উৎসবে আমন্ত্রণ জানাতে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন।
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন নেতারা। পূজা উপলক্ষে ছুটি ও আর্থিক অনুদান বাড়ানোর জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারাই স্বীকার করেছেন যে, এই স্বল্প সময়ের মধ্যে আমরা যা কিছু সম্ভব ছিল তা সম্পন্ন করেছি। আমরা অন্যান্য বিষয় নিয়েও কাজ করছি। এটিই আমাদের আন্তরিক উদ্দেশ্য প্রমাণ করে।”
দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছিল। একইভাবে, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও সব ধর্ম ও পটভূমির মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতির সংকটময় মুহূর্তে আমরা যদি ধর্মকে বিবেচনায় না নিয়ে থাকি, তবে অন্য বিষয়গুলোতে কেন তা বিবেচনা করব? আমরা সবাই মিলে এই দেশ স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আমরা সবাই অংশ নিয়েছি।”
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, কীভাবে বিভিন্ন ধর্মের নেতা ও কর্মীরা আওয়ামী লীগের—যে দলের কার্যক্রম পরবর্তীতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে—শাসনের সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ঠিক যেভাবে তাঁর মুসলিম কর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, হিন্দু কর্মীরাও একই আচরণের শিকার হয়েছিলেন; এক্ষেত্রে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো পার্থক্য করা হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি যে, মহান আল্লাহ আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন।” “আমার অবস্থান থেকে—ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং একজন মানুষ হিসেবে—আমি আমার সাধ্যমতো সবার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা করব।”
নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নাগরিক ও মানুষ হিসেবে আপনাদের যে অধিকার ও পাওনা রয়েছে, তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারপ্রধান হিসেবে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিটি নাগরিক যাতে তাদের ন্যায্য অধিকার পান, তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে তিনি সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাবেন।
মতবিনিময়কালে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা জানান যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হননি। তারা উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার বারবার প্রমাণ করেছে যে, বিএনপিকে ভোট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায় কোনো ভুল করেনি। তারা সরকারের প্রতি তাদের অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নেতাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহা, বারিধারা ডিওএইচএস পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস এবং রাজীব কুমার আচার্য। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি আবদুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ শফিকুজ্জামান রতন।
মন্তব্য করুন