
মালয়েশিয়ায় ন্যূনতম মাসিক বেতন ২ হাজার রিঙ্গিত নির্ধারণের ফলে উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দেশটিতে কর্মরত লাখো বাংলাদেশি শ্রমিকের। নতুন মজুরি কাঠামো কার্যকর হলে তাঁদের আয় বাড়ার পাশাপাশি পরিবারের কাছে আরও বেশি অর্থ পাঠানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই সুবিধা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে নতুন বেতনকাঠামোর প্রযোজ্যতা ও বাস্তবায়নের ওপর।
মালয়েশিয়ায় কর্মরত শ্রমিকদের জন্য সুখবর: সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের মাসিক ন্যূনতম মজুরি বর্তমান ১,৭০০ রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ রিঙ্গিত (যা ৫২,০০০ বাংলাদেশি টাকারও বেশি সমতুল্য) করার ঘোষণা দিয়েছে। এই নতুন মজুরি কাঠামোটি আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৭ সালের জুন মাস থেকে কার্যকর হবে। শুক্রবার সংসদে ২০২৭ সালের জাতীয় বাজেট পেশ করার সময় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম এই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি দেন।
দেশের ৪০ লাখেরও বেশি শ্রমিক—যার মধ্যে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিও রয়েছেন—এই সিদ্ধান্তের ফলে সরাসরি উপকৃত হবেন। মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী, স্থানীয় শ্রমিকদের মতো বিদেশি শ্রমিকরাও একই বিধিবদ্ধ ন্যূনতম মূল মজুরি পাওয়ার অধিকারী।
বাজেট বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, “শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা এবং মজুরির মধ্যকার ব্যবধান আমাদের কমিয়ে আনতে হবে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লেও সাধারণ মানুষের আয় সে অনুপাতে বাড়েনি; আর সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, বড় ও মাঝারি শিল্পের জন্য এই নিয়ম বাধ্যতামূলক হলেও, যেসব ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এমএসএমই) বার্ষিক বিক্রয় আয় ৫০ মিলিয়ন রিঙ্গিতের নিচে, তাদের সাময়িকভাবে এই নিয়মের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এর ফলে তারা তাদের ব্যবসায়িক কাঠামো বা মডেল মানিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবে।
এছাড়া, আধা-দক্ষ শ্রমিক এবং সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় পাস করা স্নাতকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ২,৫০০ রিঙ্গিত নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি মালিকানাধীন বা সরকারি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর (জিএলসি) ক্ষেত্রে ‘লিভিং ওয়েজ’ বা জীবনধারণের উপযোগী ন্যূনতম মজুরির মানদণ্ড ৩,৪০০ রিঙ্গিতে উন্নীত করা হবে।
অবৈধ বিদেশি কর্মী নিয়োগ রোধে মালয়েশিয়া কঠোর কর বিধিমালাও আরোপ করছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) ছাড়া অন্য সব কোম্পানিকে অবশ্যই ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে কর্মীদের বেতন পরিশোধ করতে হবে; অন্যথায় তারা ব্যবসায়িক কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না। (সরকারি আদেশটি দেখুন)
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের ওভারটাইম (ওটি) ভাতা ও অন্যান্য ভাতার আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি ঘটবে, যা বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য করুন