
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক ছাত্রী এবং তার মাকে তাদের নিজ বাড়িতে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার সকালে কালিয়াজুরি এলাকার নেলি কটেজ নামে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত ছাত্রীর নাম সুমাইয়া আফরিন পিংকি (২৩)। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী। তার মায়ের নাম তাহমিনা আক্তার। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টার মধ্যে কুমিল্লা শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালিয়াজুরি এলাকার হাতেখড়ি আনন্দ পাঠশালা স্কুল সংলগ্ন একটি ভাড়া বাড়িতে মা ও মেয়েকে হত্যা করা হয়।
হাটিকুমরুলে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সাথে ওসির মতবিনিময়
বাড়ির মালিক আনিসুল ইসলাম রানা বলেন, চার বছর আগে কুমিল্লা আদালতের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন। গত বছর তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তার সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে থাকতেন। তারা অন্য কারো সাথে খুব বেশি কথা বলতেন না। গত রাতে ঢাকা থেকে তার দুই ছেলে যখন বাড়ি ফিরে আসে, তখন তারা ঘরের দরজা খোলা দেখতে পায়। তখন তারা ভেবেছিল তাদের মা ও বোন ঘুমাচ্ছে। কিন্তু ঘরে প্রবেশের পর অনেকক্ষণ কেটে যাওয়ার পরও কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি এবং যখন তারা তাদের ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে, তখন তারা দেখতে পায় যে তারা নড়াচড়া করছে না। পরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ গভীর রাতে ঘটনাস্থলে যায়।
সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেছে: রবিবার সকাল ৮:০৮ মিনিটে টুপি এবং পাঞ্জাবি পায়জামা পরা এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে। ১১:২২ মিনিটে সিসিটিভি ফুটেজে তাকে ঘর থেকে বের হতে দেখা যায়। ১১:৩৪ মিনিটে সে আবার ঘরে প্রবেশ করে। তবে দুপুর ১:৩৫ পর্যন্ত আর কোনও সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তাদের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। তবে সিসিটিভি ফুটেজ সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, “আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
মন্তব্য করুন