
বহুল আলোচিত ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমান এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সকল আসামির খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানি চলছে।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকাল ৯:৫৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মাসুদ। তারেক রহমান-বাবরের পক্ষে শুনানি করবেন অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
আদালতে উপস্থিত বিএনপির আইনজীবীদের মধ্যে রয়েছেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মাকসুদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন এবং অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান রায়হান বিশ্বাস।
এর আগে, ৩১ জুলাই, বহুল আলোচিত ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমান এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর সহ সকল আসামিদের খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা আপিলের শুনানির দ্বিতীয় দিন শেষ হয়।
এর আগে, ১ জুন, আপিল বিভাগ ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমান এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর সহ সকল আসামিদের খালাসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষকে আপিল করার অনুমতি দেয়।
১২ জানুয়ারী, হাইকোর্ট একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তারেক রহমান এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর সহ সকল আসামিকে খালাস দেয়। বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান এবং বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ট্রায়াল কোর্টের রায় বাতিল করে রায়ে বলেন, মামলার বিচার প্রক্রিয়া অবৈধ এবং আইনিভাবে টেকসই নয়। আদালত আরও মন্তব্য করে যে, চার্জশিট আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।
এর আগে, ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর ট্রায়াল কোর্ট প্রাক্তন প্রতিমন্ত্রী বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু সহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। পরে, ওই বছরের ২৭ নভেম্বর মামলার রায় প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পৌঁছায়।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমান সহ ২৪ জন নিহত হন। শেখ হাসিনাসহ দলের শতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। অনেকেই এখনও শরীরে গ্রেনেডের স্প্লিন্টার বহন করে কঠিন জীবনযাপন করছেন, কেউ কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে গেছেন।
মন্তব্য করুন