
প্রতি বছর অসংখ্য করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় কিছু সাধারণ ভুল করেন, যার কারণে অনেককে অতিরিক্ত ভোগান্তি ও জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। রিটার্ন সঠিকভাবে প্রস্তুত ও নির্ভুলভাবে জমা দিতে আগে থেকেই সাধারণ ভুলগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
আয়কর রিটার্ন দাখিলের মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। এখন থেকে সারা বছর রিটার্ন দাখিল করা যাবে, তবে তা অনলাইনে করতে হবে।
বর্তমানে ১.২৫ কোটি ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (TIN) ধারী রয়েছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর তথ্য অনুযায়ী, গতবার ৪.৭ মিলিয়ন TIN ধারী অনলাইনে তাদের রিটার্ন দাখিল করেছিলেন।
অনেকে মনে করেন যে একবার রিটার্ন দাখিল করা হলে কর কর্মকর্তারা আর সন্দেহ করবেন না। তারা অডিট বা তদন্ত করবেন না। কিন্তু যেকোনো করদাতার কর রেকর্ড অডিট করা যেতে পারে। তাই রিটার্নে সমস্ত তথ্য নির্ভুলভাবে দেওয়া উচিত।
কিন্তু প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন দাখিল করার সময় অনেক করদাতার রিটার্নে কিছু সাধারণ ভুল বারবার দেখা যায়। এই ভুলগুলোর কারণে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা, ব্যাখ্যা এবং এমনকি কর নির্ধারণে সমস্যাও হতে পারে। কর কর্মকর্তা, কর আইনজীবী এবং কর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।
এবার দেখা যাক করদাতাদের সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলো কী কী।
১. সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা অন্য কোনো এলাকায় অবস্থিত ফ্ল্যাট, জমিসহ স্থাবর সম্পত্তি সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয় না। এতে করদাতার সম্পদের চিত্র ওঠে আসে না।
২. বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত পেতে বিনিয়োগের হিসাব ভুল দেখানো হয়। এতে করের পরিমাণ কম বা বেশি হয়ে যায়।
৩. মোট আয়ের তুলনায় খরচ বেশি দেখানো, যা আর্থিক তথ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এতে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
৪. হাতে নগদ অর্থ অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত পরিমাণে দেখানো। আয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ না হলে অস্বাভাবিক নগদ অর্থ দেখানো উচিত নয়।
৫. স্বর্ণালংকারের পরিমাণ অতিরঞ্জিতভাবে উল্লেখ করা হয়, যা বাস্তবতার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ হতে পারে। যেমন অনেকে দেখান, ৫০ ভরি সোনার গয়না আছে। মনে রাখতে হবে, ৫০ ভরি সোনার গয়নার দাম ১ কোটি টাকার বেশি। এত টাকার সম্পদ রাখার মতো আয় কি আপনার আছে, তা ভাবতে হবে।
৬. সঞ্চয়, ঋণ দেওয়া বা ঋণ নেওয়ার তথ্য সম্পূর্ণভাবে উল্লেখ করা হয়। রিটার্নে ঋণের তথ্যও দিতে হবে। তা না হলে এই অর্থ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
৭. উপহার, অনুদান বা অন্যান্য বৈধ প্রাপ্তির তথ্য বাদ দেওয়া হয়। এতে সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন ওঠতে পারে।
৮. এফডিআর, ডিপিএস, সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য আর্থিক সঞ্চয় বা বিনিয়োগের তথ্য উল্লেখ না করা।
৯. পূর্ববর্তী বছরের নিট সম্পদের তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপনার করা হয়।
১০. উৎসে কর্তিত করের তথ্য ভুল বা অসম্পূর্ণ দেওয়া, প্রকৃত পরিমাণের চেয়ে বেশি বা ভুল কর সমন্বয় দাবি করা।
আপনার আয়কর রিটার্ন দাখিল করার আগে, আয়, ব্যয়, সম্পদ, দায় এবং কর প্রদান সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য ও সহায়ক নথি সাবধানে সংগ্রহ করুন। একটি সঠিক, সম্পূর্ণ এবং আইনসম্মত রিটার্ন আপনাকে ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা এড়াতে সাহায্য করবে।
মন্তব্য করুন