মেট্রো নিউজ অনলাইন ডেস্ক
২৫ জুলাই ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, আলোচনায় যাঁরা

ছবিতে ওপরে বাঁ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, হাফিজ উদ্দিন আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান; নিচে বাঁ থেকে নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী। ছবি সংগ্হীত

বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—এ প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয়। বর্তমান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা জোরালো হলেও সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

কয়েকদিন ধরে চলা জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে বঙ্গভবন ছাড়ছেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন। তিনি গতকাল, শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করেছেন।

তার বিদায়ের পর ২৩তম রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কে বঙ্গভবনে আসবেন, তা এখন ‘দেশের আলোচনার’ বিষয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষমতা হস্তান্তর বা রাষ্ট্রপ্রধানের বিদায় সবসময়ই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দেয়।

সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা, দলীয় হিসাবনিকাশ, ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতির দীর্ঘমেয়াদী কৌশল—সবকিছু মিলিয়ে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম সূচকও বটে।

এই হিসাবনিকাশের আওতায় নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি-সহ রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ চলছে।

বিএনপির তৃণমূল থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত কয়েকটি নাম বেশ জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। জনপর্যায়েও কয়েকটি নাম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

আলোচিত নামগুলোর মধ্যে অন্যতম হলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বিশ্বস্ত মহাসচিব হিসেবে খ্যাতি অর্জনকারী মির্জা ফখরুল ফ্যাসিবাদী শাসনের চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দলের গতিধারা বজায় রেখেছেন এবং অনেকেই তাকে রাষ্ট্রপতির মতো একটি সম্মানজনক পদে দেখতে চান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দল ও সরকারে একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে আলোচনার তালিকার শীর্ষে রয়েছে মির্জা ফখরুলের নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুলের ইতিবাচক মনোভাব ও বাংলাদেশপন্থী রাজনীতি তাকে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। ঠাকুরগাঁওয়ের এই রাজনীতিবিদ দল বা মতামত নির্বিশেষে একজন সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন।

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্যদের নামও আলোচনার টেবিলে রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান এবং গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মতো পরীক্ষিত নেতারা। তাঁদের প্রত্যেকেই দলের প্রতি আনুগত্য, দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখিয়েছেন। যেহেতু তাঁরা নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় বা অন্য কোথাও জায়গা পাননি, তাই তাঁদের নিয়ে আলোচনা আরও বাড়ছে।

এছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম এবং বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও আলোচিত হচ্ছে।

এছাড়াও, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং নির্রাজনৈতিক শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। যদিও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই গুজবগুলো নাকচ করে দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে শফিকুল আলম বলেন, “একটি বিষয় নিশ্চিত, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন না। তিনি দারিদ্র্য দূরীকরণ, ‘তিন-শূন্য বিশ্ব’ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং বিশ্বব্যাপী সামাজিক ব্যবসা সম্প্রসারণের চলমান কাজে নিবেদিতপ্রাণ থাকবেন।”

নতুন রাষ্ট্রপতি কি দলীয়, নাকি অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব?

বিএনপির একটি বড় অংশ মনে করে, দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের জন্য দলের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্য থেকেই কাউকে মনোনীত করা উচিত। এমন কাউকে বেছে নেওয়া উচিত যিনি রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য, অভিজ্ঞ, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন এবং দলের আদর্শের প্রতি শতভাগ আস্থাশীল।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালও এই মতের প্রতিধ্বনি করেছেন। তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “রাষ্ট্রপতি এমন একজন হওয়া উচিত যিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে পরীক্ষিত, বিশ্বস্ত এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী।”

একজন রাজনীতিবিদ পেশাদার নাকি রাজনীতিবিদ, এই বিতর্কে আলালের যুক্তি বেশ জোরালো। তিনি মনে করেন, “পেশাদাররা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজ করেন। কিন্তু একজন রাজনীতিবিদ যেমন চায়ের দোকানে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসতে পারেন, তেমনই বঙ্গভবনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানেও অংশ নিতে পারেন। যখন রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে নির্বাচিত হন, তখন তা রাষ্ট্রের শাসনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় থাকে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও প্রায় একই সুরে কথা বলেছেন। ড. মোশাররফ স্পষ্টভাবে বলেন যে রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন বিএনপির ভেতর থেকেই হওয়া উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতির সমীকরণ সবসময় সরলরেখায় চলে না। ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্যের কথা মাথায় রেখে বিশ্লেষকরা দলীয় বলয়ের বাইরের কোনো সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য অরাজনৈতিক ব্যক্তি বা সাবেক আমলা ও বিচারপতির নাম আসার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিচ্ছেন না। তবে, বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসের কারণে বঙ্গভবনে দলের বাইরে থেকে কাউকে পাঠানোর সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন তারেক রহমানের টেবিলে

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান। তবে, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্র ছাড়া তাঁকে মূলত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই কাজ করতে হয়। তা সত্ত্বেও, রাষ্ট্রের যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে বা রাজনৈতিক সংকটে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা অপরিসীম হয়ে ওঠে। এ কারণেই ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

শনিবার (২৫ জুলাই) এক অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) উচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম নির্ধারণ করবে। দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যথাসময়ে দেশবাসীকে জানানো হবে।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনও বলছিলেন যে, রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনীত করা হবে, সে বিষয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। আর এই ফোরামের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রাজনৈতিকভাবে সচেতন মহল বলছে, দীর্ঘদিন লন্ডনে থাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা এবং দলের ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ২৩তম রাষ্ট্রপতির মনোনয়নে প্রতিফলিত হবে। তিনি কি মির্জা ফখরুলের মতো একজন সংকট ব্যবস্থাপককে পুরস্কৃত করবেন, নাকি দলের কোনো জ্যেষ্ঠ নীতি নির্ধারককে বঙ্গভবনে পাঠাবেন, কিংবা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত কোনো নাম সামনে আনবেন—সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সব মিলিয়ে, বঙ্গভবনের চাবি এখন দৃশ্যত বিএনপির হাতে। আর সেই চাবি কার পকেটে যাবে, তার জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন স্থায়ী কমিটির চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের সকলের দৃষ্টি এখন সেদিকেই ।

যে প্রেক্ষাপটে পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের অস্বস্তি বিরাজ করছিল। শুক্রবার (২৪ জুলাই) তাঁর পদত্যাগের পর দিনভর রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম ছিল। বিভিন্ন দল এই পদত্যাগকে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। জামায়াতে ইসলামী মনে করে, দেরিতে হলেও জাতির ঘাড় থেকে স্বৈরাচারের কালো ছায়া নেমে গেছে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি (এনসিপি) এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা বা তাঁর গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

তবে, সবচেয়ে বড় এবং তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া এসেছে সরকার এবং ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চান, তবে তিনি সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। এ ব্যাপারে সরকারের কিছু করার নেই।

এ প্রেক্ষাপটে, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ তার চিকিৎসা সফর সংক্ষিপ্ত করে শুক্রবার (২৪ জুলাই) দেশে ফিরেছেন। গত ১৯ জুলাই স্পিকার চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের ব্যাংককে যান। পূর্বনির্ধারিত সফর অনুযায়ী তার ২৬ জুলাই দেশে ফেরার কথা ছিল। দেশে ফেরার পরপরই রাষ্ট্রপতি স্পিকারের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সাথে সাথেই সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া শুরু হয়। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই বিধানের আলোকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

সংবিধানে আরও বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে হবে। এর ক্ষণগণনা ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করবে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পরোক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। অর্থাৎ, সাধারণ জনগণ সরাসরি রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেন না। এখানে ভোটার হলেন জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরা। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সবচেয়ে বড় সমীকরণটি এখানেই লুকিয়ে আছে।

চলতি সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন রয়েছে। ৩৫০ সদস্যের সংসদে (নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনসহ) দলটির ২৪৭ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। এই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপির মনোনীত ব্যক্তির নির্বাচিত হওয়াটা এখন শুধু সময়ের ব্যাপার। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন যে, বিরোধী শিবির থেকে কোনো শক্তিশালী প্রার্থী না থাকলে নতুন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে পারেন।

নিয়ম অনুযায়ী, সংসদীয় দলগুলো তাদের প্রার্থী ঘোষণা করবে। বিএনপি যেমন প্রার্থী দেবে, তেমনি জামায়াতে ইসলামীও চাইলে প্রার্থী দিতে পারবে। তবে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা যাদের থাকবে, শেষ পর্যন্ত তারাই জিতবে।

শনিবার রাজধানীর সিআইআরডিএপি মিলনায়তনে মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জাতীয় সংসদের আগামী সেপ্টেম্বর অধিবেশনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

“বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি”

“আয়কর রিটার্নে ১০টি সাধারণ ভুল—জানুন কী কী”

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ইস্যুতে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার-সিইসি বৈঠক চলছে

বাংলাদেশ গড়ার কাজ নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

তিন শর্ত মেনে পুনরায় লাইসেন্স পেল আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধান মেনেই যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে: মির্জা ফখরুল

শাপলা চত্বর হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

সেনাসদর নির্বাচনি পর্ষদ-২০২৬’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

হজের প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু ২৭ জুলাই ২০২৬

১০

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, আলোচনায় যাঁরা

১১

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিদায়ের গল্প

১২

৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা শুরু কবে, জানাল পিএসসি

১৩

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিদায়ের ইঙ্গিত, উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনা

১৪

খালেদা জিয়ার কারাবন্দির ঘটনায় আলোচিত ফরিদা ইয়াসমিন এখনও গুরুত্বপূর্ণ পদে

১৫

আইন ভঙ্গের দায়ে ৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

১৬

সেনা আইনেই হবে মোজাফফর হোসেনের বিচার, জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৭

শতবর্ষের বিশ্বকাপ ২০৩০: কবে, কোথায় হবে?

১৮

রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত

১৯

২০২৬ বিশ্বকাপে কোন পুরস্কার পেলেন কোন তারকা

২০