
শাপলা চত্বর হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। মামলার তদন্ত শেষে প্রসিকিউশন সংশ্লিষ্ট আদালতে এ অভিযোগ দাখিল করে। অভিযোগে ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা, পরিকল্পনা ও দায়িত্বের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের এক সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আরও ৪১ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহিরুল আমিন সোমবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে অভিযোগপত্রটি জমা দেন।
অভিযোগপত্রে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদেরও নাম রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মুর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বিচার বিভাগীয় প্যানেলে আজ মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এই মামলায় বর্তমানে নয়জন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন: সাবেক মন্ত্রী ড. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহিদুল হক, সাবেক উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্লা নজরুল ইসলাম, ১৯৭০ সালের ঘটক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বোর্ডের সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, সাংবাদিক ফারজানা রূপা ও মোজাম্মেল বাবু।
পলাতক অভিযুক্তদের মধ্যে শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজির আহমেদসহ আরও অনেকে রয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার জন্যও আবেদন করেছে।
রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, র্যালিটিকে ঘিরে ঢাকাসহ চারটি স্থানে ৬১ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৫৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে তদন্তকারী সংস্থা ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় একজন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করেছে।
এর আগে, গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারী সংস্থা এই মামলায় একটি খসড়া তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে, ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম তার কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “খসড়া প্রতিবেদনে শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজির আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজসহ আরও অনেকের নাম রয়েছে। আমরা বিষয়টি যাচাই করে দেখব।”
সেদিন তিনি বলেন, “গতকাল হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েব আমির আবদুল হামিদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে এসেছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিস। আমরা হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে খসড়া প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করেছি।”
মন্তব্য করুন