
নতুন দুটি টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার লাইসেন্স পেয়েছেন এনসিপি ও নাগরিক কমিটির দুই নেতা। তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর শিগগিরই চ্যানেল দুটির সম্প্রচারের প্রস্তুতি শুরু হবে বলে জানা গেছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার যে প্রক্রিয়ায় বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশনের (টিভি) লাইসেন্স দিত, সেই একই প্রক্রিয়া ব্যবহার করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুটি নতুন টিভি চ্যানেল অনুমোদন করেছে। চ্যানেল দুটির নাম ‘নেক্সট টিভি’ এবং ‘লাইভ টিভি’।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নেক্সট টিভি ২৪ জুন অনুমোদন পায়। এটি ‘৩৬ মিডিয়া লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানির নামে অনুমোদিত হয়েছে। কোম্পানির ঠিকানা হল পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় অবস্থিত কারাতিটোলা লেন। ‘৩৬ মিডিয়া লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম প্রধান সমন্বয়কারী মো. আরিফুর রহমান তুহিন।
একটি সূত্র জানিয়েছে যে বগুড়ার সাবেক বিএনপি এমপি একেএম হাফিজুর রহমানের ছেলে একেএম গোলাম হাসনাইন এই টিভি চ্যানেলের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন। তিনি সৌদি আরব প্রবাসী এবং সৌদি আরব (পূর্ব অঞ্চল) বিএনপির সভাপতি।
অন্যদিকে, ‘লাইভ টিভি’ ১৪ জুলাই অনুমোদন পায়। আরিফুর রহমান নামে অন্য একজন ব্যক্তি এই টিভি চ্যানেলের মালিক। তার কোম্পানির নাম ‘মিনার্ভা মিডিয়া লিমিটেড’। ঠিকানা ১৪৩ রোড, গুলশান-১। আরিফুর রহমান জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য ছিলেন। তবে জানা গেছে যে তিনি এনসিপিতে যোগ দেননি।
বর্তমানে দেশে ৫০টি অনুমোদিত বেসরকারি টিভি চ্যানেল রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৩৬টি সম্পূর্ণরূপে সম্প্রচারিত হচ্ছে। এছাড়াও, ১৪টি সম্প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে। ১৫টি অনুমোদিত আইপি টিভি (ইন্টারনেট প্রোটোকল টেলিভিশন) রয়েছে। টিভি চ্যানেলের জন্য আরও কিছু আবেদন অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারেন। এক্ষেত্রে আবেদনের সাথে বেশ কিছু নথি জমা দিতে হয়। এগুলো হলো জাতীয় পরিচয়পত্র, স্মারকলিপি (সংস্থার গঠনতন্ত্র), নিগম সনদ, ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর সনদ, ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট, প্রকল্প প্রস্তাব এবং ৩০০ টাকার একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প যার মাধ্যমে চ্যানেলটি পরিচালনা করার ক্ষমতা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
আবেদন করার পর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক যাচাই করা হয়। বেসরকারি টিভি লাইসেন্স পাওয়ার পর, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে ‘ফ্রিকোয়েন্সি ক্লিয়ারেন্স’ নিতে হয়। মূলত, সংশ্লিষ্ট সরকারি মহল থেকে ‘সবুজ সংকেত’ পেলেই কেবল তরঙ্গ পাওয়া সম্ভব।
মন্তব্য করুন