
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নে বিএনপি কমিটি গঠন নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এই কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ যাদের দেওয়া হয়েছে তারা সকলেই খুনের মামলার আসামি। তাদের বিরুদ্ধে দলীয় কর্মীদের হত্যার অভিযোগে মামলা রয়েছে।
২৬ আগস্ট এই কমিটি গঠন করা হয়। মোঃ ফারুক কবিরাজকে কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। এছাড়াও ইমাম হোসেন গাজীকে সাধারণ সম্পাদক এবং আরিফ মাহমুদ কবির মাতাব্বরকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৭ এপ্রিল এলাকায় বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে সেদিন মোঃ সাইজউদ্দিন দেওয়ান (৪৫) নামে এক কর্মী নিহত হন। জসিম উদ্দিন বেপারী (৩৮) নামে আরও একজন ৭ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
সাইজউদ্দিন দেওয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই হানিফ দেওয়ান রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করেন, যেখানে ২৬ জনকে এবং ১৬০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। মামলার প্রধান আসামি হলেন মো. ফারুক কবিরাজ, যিনি নবগঠিত কমিটির সভাপতি নিযুক্ত হয়েছেন। আরিফ মাহমুদ কবির মাতবর, যিনি সাংগঠনিক সম্পাদক নিযুক্ত হয়েছেন, মামলার আসামিদের তালিকায় ৯ নম্বরে রয়েছেন।
অন্যদিকে, জসিম উদ্দিন বেপারীর মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা হাজল করিম বেপারী রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করেন। ইমাম হোসেন গাজীকে মামলার ৯ম আসামি হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে, যাকে নতুন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নির্বাচনের মাধ্যমে উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন বিএনপি কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে তফসিল ঘোষণা করা হলেও শেষ মুহূর্তে আপোষের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভোটের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং অফিসার ও উপজেলা বিএনপির প্রাক্তন যুগ্ম আহ্বায়ক সালেহ আহমেদ তিনজনের পদ ঘোষণা করেন।
জানতে চাইলে সালেহ আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে তিনজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে ভোটের আগে নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনও সমঝোতা না হওয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
খুনের মামলার আসামি শীর্ষ পদে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দলের একজন নেতার নির্দেশে খুনের মামলার আসামিদের নিয়ে কমিটি গঠন করতে বাধ্য হয়েছি। তবে আমি মনে করি মামলার আসামিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা দলীয় সিদ্ধান্তের পরিপন্থী। এর ফলে সাধারণ মানুষের মনে বিএনপি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হবে।’
জিজ্ঞাসা করলে নতুন কমিটির সভাপতি মো. ফারুক কবিরাজ বলেন, ‘আমি খুনের ঘটনায় জড়িত নই। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে আমাকে মামলার আসামি করা হয়েছে। তাছাড়া, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উভয় পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছেছে।’
সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন গাজী বলেন, ‘বিএনপিকে দুর্বল করার জন্য আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিলাম না।’ সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মাহমুদ কবির মাতবরও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক অবস্থান নষ্ট করার জন্য প্রতিপক্ষ নিজেকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে আমাদের কোনও সম্পৃক্ততা নেই।’
জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জেএম নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘মামলায় দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আমি আর কিছু বলতে চাই না।’
দুটি হত্যাকাণ্ডের মামলার বিষয়ে রায়পুর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলো এখনও তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ হওয়ার পর আদালতে চার্জশিট দায়ের করা হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘হত্যার মামলায় স্থানীয় সমঝোতার কোনও সুযোগ নেই।’
মন্তব্য করুন