
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে, একই দিনে গণভোট হবে। সমগ্র জাতি তফসিলের জন্য অপেক্ষা করছে। আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় (যখন) তফসিল ঘোষণা করা হবে, তখন অপেক্ষার অবসান হবে। তবেই নির্বাচন ও গণভোটের চূড়ান্ত তারিখ ও সময় জানা যাবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন আজ সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে এই তথ্য জানান।
আজ বাগেরহাটের চারটি আসনের পুনর্বিন্যাস সম্পর্কে ইসি সচিব বলেন, “আমরা সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে কিছু তথ্য পেয়েছি। তবে, আমরা এখনও কোনও আদালতের আদেশ পাইনি। তাই, আদালতের আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুসারে, কেবলমাত্র ৩০০ আসন ভিত্তিক তফসিল ঘোষণা করা হবে। আদালতের রায় পাওয়ার পর, প্রয়োজনে, সেই অনুযায়ী সংশোধন করা যেতে পারে।”
এদিকে, জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচন কমিশন ভোটকেন্দ্রে বুথের সংখ্যা বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছে। এছাড়াও, ভোটগ্রহণের সময় এক ঘন্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে সিইসি, চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের সাথে দেখা করতে যান।
এর আগে, ৭ ডিসেম্বর, সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন এবং চার নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে দেখা করেন। বৈঠকে তারা প্রধান উপদেষ্টাকে সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন।
এছাড়াও, সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সাথেও দেখা করতে যান।
এই নির্বাচনে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২৭,৬৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে ৬৪,৮১৪,৯০৭ জন পুরুষ ভোটার, ৬২,৮৭৯,০৪২ জন মহিলা ভোটার এবং ১,২৩৪ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার।
নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১৮ বছর বয়স পূর্ণ করেছেন এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরি করেছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র ও জনসাধারণের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপর ৮ আগস্ট একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। সেই সরকার গত ১৬ মাস ধরে দেশ পরিচালনা করছে।
মন্তব্য করুন