
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে যুবকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভয়-ভীতি ও অনিয়ম উপেক্ষা করে সুষ্ঠু ভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে এবং প্রয়োজনে যুবসমাজকে ‘জুলাইযোদ্ধা’র মতো সাহসী ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষিত থাকে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবরে দোয়া শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই কথা বলেন। এরপর তিনি সেখান থেকে গাইবান্ধায় নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন।
এসময় তিনি নদী খনন, শিল্প-কারখানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনসহ নানা প্রতিশ্রুতি দেন।
জামায়াত ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পক্ষে ভোটের প্রচার করতে উত্তরবঙ্গ সফর করছেন জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার দিনের শুরুতে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন। এর মধ্যে দিয়ে উত্তরবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। এসময় জুলাইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, ভোট নিয়ে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে যুবকদের জুলাই যোদ্ধার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।
রংপুর থেকে রওনা হয়ে গাইবান্ধায় আসেন জামায়াত আমির। যোগ দেন জেলার এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের নির্বাচনি জনসভায়।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর এসএম উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে চাঁদাবাজদের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চাঁদাবাজ, তুমি ভয় পেয়ো না। তোমার হাতেও আমরা সম্মানের কাজ তুলে দেবো। সমাজে তোমাকে আর মুখ ঢেকে চলতে হবে না। কেউ তোমার মা-বাবাকে চাঁদাবাজের মা-বাবা বলবে না, স্ত্রীকে কেউ চাঁদাবাজের স্ত্রী বলবে না। সম্মানের সঙ্গে সমাজে বসবাস করতে পারবে।
উত্তরবঙ্গের নদীগুলো এখন মরুভূমি, কঙ্কাল হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, নদীর জীবন ফিরে এলে নর্থ বেঙ্গলের জীবন ফিরে আসবে। আমরা গোটা নর্থ বেঙ্গলকে একটা কৃষিভিত্তিক রাজধানীতে পরিণত করতে চাই। সরকার গঠন করতে পারলে আমরা সবার আগে দৃষ্টি দেবো এই নদীগুলোর ওপর। তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি নদীগুলোকে জীবন দেওয়ার মহাপরিকল্পনা নেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আধিপত্যবাদের ছায়া বাংলাদেশে আমরা দেখতে চাই না। অবশ্যই বিশ্বের সব সভ্য দেশের সঙ্গে আমরা বন্ধুত্বের সম্পর্ক চাই, আমরা প্রতিবেশীদেরও আমাদের প্রতিবেশী হিসেবে দেখতে চাই। আমরা কারও ওপর খবরদারি করতে চাই না। আর কেউ এসে বাংলাদেশের ওপর খবরদারি করুক তাও দেখতে চাই না। আমাদের কথা একদম পরিষ্কার। ৫৪ বছর যেই শাসন, যেই রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যে বন্দোবস্ত দেশবাসীকে ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে। এই শাসন আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা চাই তার আমূল পরিবর্তন।
গণভোটে হ্যাঁ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখ। একসঙ্গে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোট আর সাধারণ নির্বাচন। আমি বলবো, গণভোট সফল হলে সাধারণ নির্বাচন সফল হবে। তাই গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। জুলাই শহীদের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা কোনো রাষ্ট্রের ওপর খবরদারি করতে চাই না এবং আমাদের ওপর কেউ খবরদারি করুক এই সুযোগও কাউকে দেবোনা। আমরা সবার জন্য ন্যায় এবং ইনসাফের রাষ্ট্র গড়ে তুলবো।
মন্তব্য করুন