
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি পেয়েছেন ২৫৫ ভোট এবং কর্নেল অলি ৮৮ ভোট।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে প্রকাশ্যে ভোট গণনা করা হয়। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কর্মকর্তা এএমএম নাসির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ।
এর আগে, দুপুর ২টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। বক্তব্যের শুরুতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের মাইক্রোফোন বিকল হয়ে যায়। পরে তিনি দুই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন এবং সংসদ সদস্যদের কাছে নির্বাচন পরিচালনার নিয়মাবলী উপস্থাপন করেন।
এরপর, নির্বাচন সহায়ক কর্মকর্তারা সংসদ সদস্যদের আসনে ব্যালট পেপার নিয়ে যান। সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে, পুরো নাম স্বাক্ষর করে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম সর্বপ্রথম ভোট দেন। এরপর ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা ভোট দেন। ক্ষমতাসীন দলের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ভোট দেন।
এই নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্যের ভোট দেওয়ার কথা ছিল। তবে অসুস্থতার কারণে বিএনপি সাংসদ মির্জা আব্বাস ভোটে অংশ নিতে পারেননি। আর সংসদ সদস্য না হওয়ায় কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।
ভোটের জন্য তিনটি ব্যালট বাক্স রাখা হয়েছিল। ভোটগ্রহণের সময় যাতে ভিড় না হয়, সেজন্য সংসদ সদস্যদের পর্যায়ক্রমে ব্যালট পেপার দেওয়া হয়। ব্যালট পেপারে দুজন প্রার্থীর নাম ছিল। সংসদ সদস্যরা নির্ধারিত স্থানে ভোট দিয়ে স্বাক্ষর করেন এবং ব্যালট বাক্সে তা জমা দেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন ভোটগ্রহণ পরিচালনা করেন। এ সময় নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন। ভোটগ্রহণের প্রথম ২০ মিনিট সরাসরি সম্প্রচারও করা হয়।
বিকেল ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ব্যালট বাক্সগুলো খোলা হয়। এরপর প্রকাশ্যে ভোট গণনার পর ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
প্রসঙ্গত, সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর। এরপর ১৯৯৬, ২০০১, ২০০২, ২০০৯, ২০১৩, ২০১৮ এবং ২০২৩ সালে একাধিক প্রার্থী না থাকায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। ফলে ৩৫ বছর পর আবারও সংসদ সদস্যদের ব্যালটের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় ব্যাপকভাবে প্রত্যাশিত ছিল। তবে এই নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যকার ভোটের ব্যবধান রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
শাসক দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করবেন।
মন্তব্য করুন