
ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ লক্ষ লক্ষ ভক্তের কাছে উত্তেজনার উৎস। মাঠের বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন উত্তপ্ত, তেমনি মাঠের লড়াই সবসময়ই মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, ভারত প্রায়শই এই মহাকাব্যে একতরফাভাবে জয়লাভ করেছে। এশিয়া কাপের গত সংস্করণে এটি পুনরাবৃত্তি হয়েছিল। সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারত পাকিস্তানকে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে এবং টানা দ্বিতীয় জয়ের মাধ্যমে সুপার ফোরে এক পা রেখে যায়।
পাকিস্তানের ব্যাটিং পতন
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। কিন্তু শুরুটা খারাপ হয়। ব্যাটসম্যানরা জসপ্রিত বুমরাহর গতি এবং সুইংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেনি।
বাঘাইহাট সেনা জোন একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করে
প্রথম ওভারে ধাক্কা: ওপেনার সাইম আইয়ুব ইনিংসের প্রথম বৈধ বল দিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে আসেন। হার্দিক পান্ডিয়ার করা শর্ট লেন্থ বলটি সঠিকভাবে সময় নির্ধারণ করতে না পেরে, তিনি বুমরাহর হাতে পয়েন্টে ক্যাচ করেন।
তারপর মোহাম্মদ হারিস ব্যর্থ হন। বুমরাহর গতি সামলাতে না পেরে মাত্র ৫ বলে ৩ রান করে হার্দিক পান্ডিয়ার হাতে ধরা পড়েন তিনি।
৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর পাকিস্তান বড় সমস্যায় পড়ে।
মাঝের ওভারে নিয়ন্ত্রণ নেন ফারহান।
তৃতীয় উইকেটের জন্য শাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান দলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে, ১৫ বলে ১৩ রান করার পর ফখর যখন ফিরে আসেন, তখন চাপ আরও বেড়ে যায়। এরপর সালমান আলী আগা, হাসান নওয়াজ ও মোহাম্মদ নওয়াজ ব্যর্থ হন এবং আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন।
তবে, এক প্রান্ত এগিয়ে রেখে ফারহান ভালো খেলেন। তিনি ৪৪ বলে ৪০ রান করেন এবং পাকিস্তানকে লড়াইয়ে রাখার চেষ্টা করেন।
শেষে আফ্রিদির ঝড়
ফারহানের আউট হওয়ার পর মনে হচ্ছিল পাকিস্তানের ইনিংস এখানেই শেষ। কিন্তু ব্যাট হাতে চমক দেখান শাহিন শাহ আফ্রিদি। পাওয়ার হিটিংয়ের দুর্দান্ত প্রদর্শনে তিনি মাত্র ১৬ বলে ৩৩ রান করেন অপরাজিত। তার ইনিংসে চারটি ছক্কা ছিল। এর ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১২৭ রান তুলতে সক্ষম হয় পাকিস্তান।
ভারতের ইনিংস: অভিষেক-সূর্যের ঝড়
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত দুর্দান্ত শুরু করে।
শুভমান গিলের বিদায়: ১০ বলে ১২ রান করে গিল স্টাম্পড হন।
তবে, অন্য ওপেনার অভিষেক শর্মা ঝড় তোলেন। শাহিন আফ্রিদির প্রথম ওভারে একটি চার এবং একটি ছক্কা মেরে আত্মবিশ্বাসী শুরু করেন তিনি। দ্বিতীয় ওভারে, একইভাবে চারটি ছক্কা মেরে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ ভেঙে দেন তিনি। অবশেষে ১৩ বলে ৩১ রান করে আউট হন তিনি।
প্রথম ১০ ওভারে ভারত ৮৮ রান করে, যা মূলত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে।
সূর্যকুমার এবং তিলকের দায়িত্বশীল ব্যাটিং
শেষ পর্যন্ত, অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং তিলক ভার্মা সহজেই লক্ষ্য অর্জন করেন।
সূর্য ৩৭ বলে ৪৭ রান করে অপরাজিত থাকেন।
তিলকও গুরুত্বপূর্ণ ২০ রান যোগ করেন।
ফলস্বরূপ, ভারত ১৫.৫ ওভারে ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয়লাভ করে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১২৭ রান
শাহিবজাদা ফারহান: ৪৪ বলে ৪০ রান
শাহিন আফ্রিদি: ১৬ বলে ৩৩*
উইকেট: সাইম আইয়ুব ৩/২৫
ভারত: ১৫.৫ ওভারে ৩ উইকেটে ১২৮ রান
অভিষেক শর্মা: ১৩ বলে ৩১ রান
সূর্যকুমার যাদব: ৩৭ বলে ৪৭*
তিলক বর্মা: অপরাজিত ২০ রান
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট
১. বুমরাহ-হার্দিকের ফায়ার বোলিং পাকিস্তানের শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের শুরুতেই ব্যর্থ করে দেয়।
২. অভিষেক শর্মার ঝড়ো ব্যাটিং ভারতকে শুরুতেই এগিয়ে দেয়।
৩. শাহিন আফ্রিদির দুর্দান্ত ইনিংস পাকিস্তানকে লড়াইয়ে ধরে রেখেছিল, কিন্তু ছোট লক্ষ্য যথেষ্ট ছিল না।
এই জয়ের মাধ্যমে ভারত প্রমাণ করেছে যে তারা কেবল শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের উপরই নির্ভরশীল নয়, বরং একটি শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের উপরও নির্ভরশীল। বুমরাহর ফর্ম এবং অভিষেক শর্মার আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং আসন্ন ম্যাচগুলিতে ভারতের জন্য বড় উৎসাহ হতে পারে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডার আবারও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। টপ এবং মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা তাদের টুর্নামেন্টে অগ্রগতি কঠিন করে তুলতে পারে।
মন্তব্য করুন